October 14, 2026, 2:46 am
যমুনা নিউজ বিডি: ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বন্যাজনিত বিভিন্ন ঘটনায় আরও ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরের বন্যায় রাজ্যে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩১ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে আসামের ১৬টি জেলায় ৫ লাখ ৬৪ হাজারের বেশি মানুষ বন্যাকবলিত হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, আসাম রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (এএসডিএমএ) সর্বশেষ বুলেটিনে এই ভয়াবহ তথ্য জানানো হয়েছে। গত এক দিনে সবচেয়ে বেশি ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে শিবসাগর জেলায়। এছাড়া চরাইদেও জেলায় পাঁচজন, গোলাঘাটে দুজন এবং জোরহাটে একজন মারা গেছেন।
সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যের ১৬টি জেলার ৮৭২টি গ্রাম এখন পানির নিচে রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত শিবসাগর জেলা, যেখানে সাড়ে ৩ লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। বর্তমানে ৭১টি ত্রাণশিবিরে ১২ হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। দিখৌ, দিসাং ও ব্রহ্মপুত্রসহ বেশ কয়েকটি প্রধান নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।
আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানিয়েছেন, বন্যাকবলিত এলাকার পরিস্থিতি ও ত্রাণ কার্যক্রম পর্যালোচনায় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলো সফর করবেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বলেন, উজানের মেঘভাঙা বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় রাজ্যের মানুষ চরম বিপদে পড়েছেন।
এদিকে রেললাইনে পানি উঠে যাওয়ায় টানা দ্বিতীয় দিনের মতো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রুটে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় কিছু ট্রেন বাতিল ও রুট পরিবর্তন করা হয়েছে। এছাড়া যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখতে ক্ষতিগ্ৰস্ত জেলাগুলোতে বিশেষ ‘ইন্ট্রা-সার্কেল রোমিং’ সুবিধা চালুর ঘোষণা দিয়েছে ভারতের টেলিযোগাযোগ বিভাগ, যার ফলে একটি অপারেটরের নেটওয়ার্ক অচল থাকলেও গ্রাহকরা অন্য অপারেটরের সিগন্যাল ব্যবহার করে জরুরি মোবাইল সেবা সচল রাখতে পারবেন।